বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেবেন, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অবিচার ঘটলে তিনি ছাড় দেবেন না। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।
ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, আমি কেবল কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছি, এখন অন্যান্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব এবং সারা দেশের খবর নেব। তিনি জানান, ছোটখাটো বিষয় এখনও যদি হয়ে যায় তবে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে খুব একটা ভাবব না, কিন্তু বড় কোনো সমস্যা হলে আমরা ছাড় দেব না। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এ বিষয়ে আমরা কঠোর।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনটি ভোটের বিরতির পর আজ আল্লাহ আমাদের আবার এই স্বাধীনতা দিয়েছেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমি নিজেই নই, বিশেষ করে যুবসমাজ—যারা জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি—তারা এই ভোটের জন্য অপেক্ষা করছিল। এটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও দখলমুক্তভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, এই ভোট যেন সবাই গ্রহণ করে, সেই জন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এমন সরকার গঠিত হবে, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বললেন, নির্ভয়ে কেন্দ্রে যান, নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশের একটি গর্বিত অংশীদার হোন। সবাই যেন নিজের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করেন, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশ গড়ার কাজে মিডিয়ার পাশে তার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি সকলের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমাদের ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মিডিয়ায় একই খবর ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। কেউ অপরাধ করলে আমি তার বিপক্ষে, তবে যা অপরাধ নয়, তাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ।





