বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ২০ জেলে অপহরণ

বঙ্গোপসাগরের পৃথক দুটি স্থানে দস্যুরা অপহরণ করেছে ২০ জন জেলেকে। সোমবার গভীর রাতে নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়ির খাড়িসংলগ্ন জলসীমায় মাছ ধরছিলেন জেলে ও ট্রলার। এই সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা অস্ত্রের মুখে ওই ট্রলারগুলোতে হামলা চালিয়ে ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর স্থানীয় জেলেদের বলে জানা গেছে। জেলেদের মধ্যে আছেন হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়োল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা এবং আশাশুনি এলাকায়। বনবিভাগের পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির অফিসার মিল্টন রায় মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা দুইটি জেলেসহ ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা ট্রলার ছাড়ার আগে অন্য জেলেদের মোবাইল নম্বরও রেখে যায়। শরণখোলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর দখল করে দস্যুরা ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই ঘটনাগুলির ফলে জেলেরা মাছ ধরা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে এবং অপহরণের ভয়ে সাগরে যেতে চাইছে না। দস্যুদের চাঁদা ও মুক্তিপণের জন্য অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। পেশা ছেড়ে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছে কিছু ব্যবসায়ী। তিনি দ্রুত অপহৃত জেলেদের উদ্ধার ও দস্যুদমন অভিযান জোরদার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। জলদস্যুরা দাপটের সঙ্গে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকে নিজেদের কবজায় রাখার কারণে জেলেরা মারাত্মক আতঙ্কে আছেন, এবং এই জুলুমের অবসান জরুরি।