শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি দল গণরায়কারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য

নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের স্বপ্ন ছিল দেশের সংসদ ও সংবিধানের সংস্কার। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, তারা গণভোটের মাধ্যমে একটি সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা দেশের গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এক মন্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রথমদিন থেকেই গণপ্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান ও মন্ত্রিসভার শপথের দিনজনকেই স্বীকৃতি দিয়ে, মূলত তাদের নিজেদের স্বার্থে আদর্শিক অসঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, যারা জনগণের خيار হিসেবে গণভোটে হ্যাঁ বলে মত দিয়েছিল, তাদের সবার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি পর্ব। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বহু শহীদের রক্তের মূল্য দিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক পথের ওপর অগ্রসর হয়েছি বলে তার অভিমত। তিনি আশা করেছিলেন, এ দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কার হবে, ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে কিছু কারচুপির অভিযোগও আনেন তিনি, তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হয় বলে তারা এসে নির্বাচনের ফল মানছেন।

তবে, তিনি জানান, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সময় এক ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। সংবিধান অনুসারে, সংসদ সদস্য ও এই পরিষদের সদস্যরা একই দিনে শপথ নেবে—এমনটাই নির্ধারিত ছিল। এই শপথে একই ব্যক্তি পতাকা হাতে থাকবেন, ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে এই পরিষদ গঠন করবেন যাতে তারা দেশের সংস্কার প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন করতে পারেন। কিন্তু, নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, কিছু ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির কারণে এই প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের প্রতি অবমাননা করে মূলত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ না নিয়ে বিরত থাকেন। এর ফলে, দেশের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির কাজে অকার্যকর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শপথ নেবেন এবং এই সংবিধান সংস্কারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে—প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণ করবে। অন্যথায়, তিনি আরও বলেছেন, এই জাতীয় সংসদ ও সংসদীয় কার্যক্রমের মূল্য অনেক কম। তিনি অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন, সেই দিনের জন্য যখন এই প্রতারণা অবসান হবে, দেশের স্বার্থে সত্যিকার পরিবর্তন আসবে, এবং বাংলাদেশের মানুষ আবার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপভোগ করবে।