রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: পুনর্বিন্যাস ও সাংগঠনিক গতি বৃদ্ধি

আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল বৈঠকে নেওয়া হয়, যেখানে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে আবারও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও, দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে দেশের ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত অঞ্চল পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রমের গতি আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কমিটির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

শুক্রবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের সাথে পরামর্শে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীগণ সশরীরে অংশগ্রহণ করেন।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ডা. শফিকুর রহমানকে দলের আমির নির্বাচিত করার প্রায় তিন মাস পরে এই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটিতে চার জন নায়েবে আমির হচ্ছেন— এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) এবং মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।

সাত জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মধ্যে রয়েছেন— মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নেতাদের সমন্বয়ে ২১ জন সদস্য রয়েছেন, যারা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। নারী সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে— কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী রয়েছে, এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা বিভাগে ১৭ জন নারী সদস্য থাকবেন, যা সংগঠনে নারীর অংশগ্রহণের উন্নতি নির্দেশ করে।

ডিপ্লোম্যাটিক কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হচ্ছেন মাওলানা এটিএম মাছুম।

সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রমের আরও গতিশীলতা আনার জন্য বিভাগীয় স্তরে ১৪টি অঞ্চল নির্ধারণ করে প্রত্যেকের জন্য পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা রংপুর-দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া-যশোর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা মহানগর, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন।

সংগঠনের এই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটি তার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করে আগামী নির্বাচনী আন্দোলন ও কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই কাঠামো বজায় রেখে মাঠ পর্যায়ের পুনর্গঠন, কর্মসূচি সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।