সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা দেন দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভার্চুয়াল বৈঠকে এটি সম্পন্ন হয়, যেখানে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য নতুন কমিটি গঠন ও শপথ নেওয়া হয়।

নতুন কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, যারা দলটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও, চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা ও ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠিত হয়েছে।

এছাড়া, দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিক কর্মক্রমকে আরও জোরদার করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের সার্বিক কর্মকাণ্ডের জন্য ঢাকাসহ ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চল ভাগ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক অঞ্চলে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংগঠন আরও সুসংগঠিত হয়ে ওঠে। এই নতুন কমিটির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

শুক্রবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন করেন এবং শপথ গ্রহণ করান। উল্লেখ্য, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, অন্যরা ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

গত বছর ২ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানকে দলটির আমির নির্বাচনের প্রায় তিন মাস পর এই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটিতে চার জন নায়েবে আমির আছেন, যাদের মধ্যে আছেন– এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ. ন. ম শামসুল ইসলাম।

সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন– মাওলানা এটিএম মাছুম, রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মোহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে মোট ২১ সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন– মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা এটিএম মাছুম ও অন্যান্য নারী ও পুরুষ নেতৃবৃন্দ।

দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সদস্যদের মধ্যে নারীর প্রতিনিধিত্বও উল্লেখযোগ্য, যেখানে ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে ১৭ জন নারী সদস্য রয়েছে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলের সংগঠনের মধ্যে নারী অংশগ্রহণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী পরিবেশে আরও সুসংহত ও গতিশীল করার জন্য ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের প্রধান হলেন মাওলানা এটিএম মাছুম, অন্যান্য কমিশনাররা রয়েছেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।

সারাদেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রংপুর-দিনাজপুরে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরীতে মিয়া গোলাম পরওয়ার, উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, দক্ষিণে আবদুর রবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব পালন করবেন।

এভাবে, নতুন কমিটি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন চালিয়ে জেলার ও দলের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও পরিকল্পিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জামায়াত। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই কাঠামো অনুসারে মাঠ পর্যায়ে সংগঠন, কর্মসূচির সুচারু সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়।