সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

প্রবাসীরা সাধারণত দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য অর্থ পাঠানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, ফলে দেশে বৈধ উপায়ে অর্থ প্রবাহ বেড়েছে। এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রবাসীদের এই অর্থনৈতিক সেহেতু ধারা চলমান থাকলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে পরিবারের খরচ যোগানোর জন্য প্রবাসীরা আরও বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শীঘ্রই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ्यानুসারে, জানুয়ারি মাসে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার অর্থ পাঠিয়েছেন, যা বাংলায় হিসেব করলে ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার সমান। দেশের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ৩২২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সর্বোচ্চ রেকর্ড গত মার্চ মাসে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে, যেখানে প্রবাসীরা ৩২৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের বাংলাদেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি, নভেম্বরেই ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি, এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলারের মতো রেমিট্যান্স এসেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই মাসগুলোতে দেশের প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এর আগে, গত অর্থবছরে এই সময়ে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার বলে ধরা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাবও কমেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বেশ কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।