সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সতর্ক হচ্ছে জনগণ

খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু একথা বলেছেন, প্রায় দেড় দশক পর বাংলাদেশে জনগণ এখন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার দ্বারা গঠিত গণতান্ত্রিক সরকার উপভোগ করছে। তিনি বলেন, বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয় মূলতঃ জনগণের বিজয়; মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই বিজয়ের পেছনে কিছু গোষ্ঠী মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার চালিয়ে চলছে, যা সত্যের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিএনপি’র বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয় জনবিরোধী এই গোষ্ঠী, যা থেকে জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। যারা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী বিতর্কিত কাজে জড়িয়ে পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন ও দলাদলি মুক্ত রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে কোনোভাবেই কালিমালেপন বা অপমানের সুযোগ দেওয়া হবে না।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরীর কে. ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় মো. মনিরুজ্জামান মন্টু একথা বলেন। এই সভাটি প্রতিবছর রমজান মাসে খুলনার সম্মানিত নাগরিক এবং দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ১৬ রমজান (৬ মার্চ) খুলনা ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি’এর ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এই মাহফিল সফল করে তুলতে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টুকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব (অপেক্ষাকৃত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে সদস্য সচিব করে পাঁচটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে; এর মধ্যে অর্থ ও ক্রয় কমিটি সহ আরও বিভিন্ন উপ-কমিটি রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি আরও বলেন, ইফতার মাহফিলের আর্থিক অনিয়ম বা চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় বিএনপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বটবাহিনী, যারা সীমাহীন মিথ্যাচার চালিয়ে গেছে। আগামী মেয়াদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এই গোষ্ঠী তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তাদের অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মী। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সরকারি দল ভেবে নিজেদের অবস্থান গা ভাসিয়ে রাখতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়বে।

সদস্য সচিব (অপেক্ষাকৃত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, কেন্দ্র থেকে খুব শিগগরই দল পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার জন্য নির্দেশনা আসতে পারে। বর্তমান নেতাকর্মীদের ত্যাগ, পরীক্ষা ও নির্যাতনের মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, যারা দলের মধ্যে প্রবেশ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ত্যাগী, পরিশ্রমী ও ডেডিকেটেড নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দলকে শক্তিশালী ও একত্রিত করা হবে। সকল নেতাকর্মীর এই ইফতার মাহফিলে সক্রিয় দায়িত্ব পালন ও সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন নেতৃবর্গ ও দলীয় কর্মকর্তা, যেমন যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মহান মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এসএম শামীম কবির, গাজী তফসির আহমেদ, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, আশরাফুল আলম নান্নু, মো. আনিসুর রহমান, শেখ আজগর আলী, নাসমুস সাকির পিন্টু, জিএম রফিকুল হাসান, আরিফুর রহমান আরিফ, ইলিয়াস মল্লিক, মল্লিক আব্দুস সালাম, মনির হাসান টিটো, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, মনিরুজ্জামান লেলিন, এমএ হাসান, আশরাফুল ইসলাম নূর, আসাফুর রহমান পাইলট, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, মো. আছাফুর রহমান, মাত্তুরুর রহমান লিটন সহ আরও অনেকে। এই অংশীদারিত্বমূলক আলোচনা ও পরিকল্পনায় দলটির নেতাকর্মীরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।