মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সড়ক অবরোধের ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে এখন আর কোনোভাবে ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনি ও বিশৃঙ্খলা স্বচ্ছন্দে চালানো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা রাস্তায় অবরোধ করে আন্দোলন করার দিন শেষ। এখন থেকে কোনো দাবি আইনসম্মত ও বৈধ পন্থায় উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। উক্ত সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশি সংস্কার এবং পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ের উপর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

মব ভায়োলেন্স বা গণপ্রতিশোধমূলক সহিংসতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রথম দিনই বলেছি, বাংলাদেশে এখন থেকে মব কালচারের কোনো স্থান থাকে না। যদি কোথাও چنین ঘটনা ঘটে, তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া খুবই কঠোর হবে। বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা সৃষ্টি করে রাস্তায় অবরোধ করে দাবি আদায়ের জমানাও বন্ধ। এখন থেকে কেউ চাইলে স্থানীয় ফোরামে স্মারকলিপি দিতে পারেন, মিছিল ও সমাবেশ করতে পারেন কিংবা আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। তবে জনজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে আইন নিজস্ব গতিতে কাজ করবে।

পুলিশের চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করতে ও সততার সঙ্গে নিয়োগের বিষয়েও সচেতন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গত সরকার সময়ে লটারির ভিত্তিতে ওসি ও এসপি নিয়োগের প্রক্রিয়া সহ বিদেশি অনিয়মের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যা বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। এছাড়া, জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) পলিটিক্যাল প্রটোকল না দেয়ার এবং কেবল বিধিবদ্ধ প্রটোকল অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর নাম আসছে। তিনি বলেন, এমন কিছু সুবিধাবাদী কিছু মানুষ নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করছে। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি আইনের শাসনের নামে হয়রানির শিকার না হয়, নিশ্চিত করতে।

পাসপোর্টসেবা আরও সহজ করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মতো ‘এনলিস্টেড সহযোগী’ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। সাধারণ মানুষ যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নয়, তারা এই মাধ্যমে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে প্রতিনিধি দ্বারা সেবা পাবেন। এর ফলে দালাল ও অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে। পাশাপাশি, পুলিশে জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিকে প্রতিশ্রুতি দেন, বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে এবং সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ২০০৬ সালের নিয়োগ বঞ্চিত সাব-ইন্সপেক্টরদেরও আদালতের রায় অনুসারে পুনঃ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্তে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশ কর্তৃক অবৈধ হস্তক্ষেপ বা ক্ষমতা অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কিংবা কেউ বাধা দেয়, তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।