মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মরণে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিশেষ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এদিন তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক দোয়াও পড়েন। উল্লেখ্য, এটি ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক উদ্যোগ যেখানে তারা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। এই ঘটনার সূত্রে প্রকাশ, ওই সময় তারা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের জন্য মোনাজাত করেন। তবে, এই উত্তোলন নিজেই ছিল অসাধু পান্ডিত্যের পদক্ষেপ, কারণ এই এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল, এবং নিষিদ্ধ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ। পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি তাঁরা ভাষা শহীদদের জন্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু পতাকা উত্তোলনের পর নেতাকর্মীরা সতর্কভাবে স্থান ত্যাগ করেন। এই ঘটনা এলাকায় ক্ষোভ ও চাপের মুখে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের নেতা শাহরিয়ার আহমেদ সুমন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ দলীয় নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন এবং নানা স্লোগান দিয়েছিলেন। এটি মূলত তাদের দুঃশ্চিন্তার ফলাফল, কারণ বিগত এক বছর দেড়ের বেশি সময় ধরে এই দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে ছাত্রজনতা তার ক্ষোভ প্রকাশ করবেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু নেতাকর্মীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।