বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে আলোচিত এবং বিতর্কিত যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট প্রশাসন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি প্রমাণিত হওয়ার পর বোর্ড তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল। আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর তিনি দেশের সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এর পাশাপাশি, একজন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের অভিযোগের ভিত্তিতে বোর্ড তার পাশে আছি এবং আইনি লড়াইয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবে—এমন আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, চীনে অবস্থানরত জাহানারা আলম একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। এরপরেই বোর্ড একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন প্রথমে বিচারপতি তারিক উল হাকিম, পরে তা পাঁচ সদস্যে সম্প্রসারিত হয়। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর, ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। সোমবার বোর্ড সভায় তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঞ্জুরকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ভুক্তভোগীর სურვ অনুযায়ী, সে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সুদৃঢ় সহায়তা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলে একদিকে ক্রিকেটের শৃঙ্খলে তার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশের ক্রিকেট পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। এখন সবাই উৎসুক এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিকতার জন্য। বোর্ডের এই পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





