ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া এখন চলছে, এবং এ বিষয়ে তিনি তার নিজস্ব দিক থেকে সমন্বয় কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের অধিকাংশটাই তার মাধ্যমেই হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে একটি জরুরী বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার আরমান জানান, প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীরা বিদেশী এবং তারা নগদে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি তাদের দেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে এই প্রক্রিয়ার সমন্বয় করছেন। বলেন, তারা যখন দেশে আসবে, তখন মূল আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি কোন দেশের বা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করছেন—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করেননি।
অপরদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নগদের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য বড় পরিমাণে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের বা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে যে কোনও বিনিয়োগ এলে তা স্বাগত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এক সময় নগদ বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল। বিশাল গ্রাহকভিত্তির কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি প্রশাসক দল নিয়োগ করেছিল। দীর্ঘ সময় তারা দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন আর্থিক সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তবে এসবই স্থায়ী সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগদ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান। এটি টিকিয়ে রাখতে না পারলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি আরও জানান, অতীতে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐ উদ্যোগের সঙ্গে একমত ছিল, তবে সরকারের অন্তর্বর্তী সময়ের কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি। এখন নতুন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি, নগদের মালিকানার সঙ্গে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সম্পৃক্ততা থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকারের মতামত জরুরি—এ বিষয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে।
উল্লেখ্য, নগদে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে ইতোমধ্যে তিন থেকে চারটি আবেদন পাওয়া গেছে। এসব আবেদন একসঙ্গে মূল্যায়ন করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





