বরিশাল জেলা আদালতের অডিটোরিয়ামে ঘটে এক বেশ জটিল ও উত্তপ্ত ঘটনা, যেখানে আইনজীবীরা আদালতে ঢুকে মারাত্মক হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি চালিয়েছেন। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিনের ঘটনা, যা নিয়ে বিশদ আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কিভাবে আদালতের ডেস্কে ও আদালতকক্ষে আইনজীবীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও আদালত সূত্র বলছেন, তখন আদালত বলপ্রয়োগ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চলে যায়। এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা,কিন্তু পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সেই সময় তারা বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিচারক ও বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একজন মামলার শুনানি চলার সময়, আদালতের ভেজানো দরজা থেকে একজন আইনজীবী চিৎকার করে প্রবেশ করেন। তাঁর পেছনের আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী তাকে অনুসরণ করেন। তারা আদালত কক্ষে বেঞ্চগুলোতে আঘাত করে আইনগত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন এবং বিচারকের সামনে গিয়ে অশোভন ভাষায় অভিযোগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বেঞ্চগুলো ধাক্কা দেয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আইনজীবীদের সূত্র জানায়, প্রথম প্রবেশকারী আইনজীবী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। তিনি জানান, আদালত থেকে ৩০-৪০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে জামিন অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের জামিনে এক ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি।” তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একাধিকবার জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করবো এবং পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে চাই।’
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব আহমেদ জানান, ‘ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে, আমি এখন আর বিস্তারিত বলতে পারছি না।’
প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও আইনজীবীদের মধ্যে এই উত্তেজনার ঘটনা পাল্টা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। বরিশালের এই পরিস্থিতির মধ্যে, আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ ফেব্রয়ারি বরিশালের বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনের সদস্য জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ও যুবলীগের নেতা মাহমুদুল হক খান। এই ঘটনা আরও একটি বার্তা হিসেবে প্রতীয়মান হলো যে, বরিশালের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চলাচল কোথাও কোথাও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।





