নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে দেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও এক দফা পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বললেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, এবং ইতোমধ্যে সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। মার্চ ১৮ তারিখে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস কাজের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার এ ট্রিগার ডিফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং সম্পর্কিত বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি অনুধাবন করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পেছানোর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, আর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে, যদিও এ বিষয়টি একেবারেই বাধ্যতামূলক নয়।
রপ্তানিSector-এর সাম্প্রতিক ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানির কাঠামো এখনও খুবই সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই নির্ভরশীল একেকটি পণ্যের উপর। এই স্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি পর্যায়ে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন জগৎজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খুবই সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে আছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, তাই ভুলের সম্ভাবনা এড়াতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। গত কিছু মাসের মন্থর গতি দ্রুততা পূরণের জন্য সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তবে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান মাস ও এর পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যਦੇয়া পর্যাপ্ত মজুদসহ পাইপলাইনে পণ্যও রয়েছে, ফলে আতঙ্কের কিছু নেই। শঙ্কা জাগাতে পারে বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান, কথা দিয়ে নয়। তিনি বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”
রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। সাধারণত এক মাসের জন্য বাজারে ভোগের চাহিদা বেশি হলে দাম ওঠে, তবে এ ধরণের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগ আসে না। উত্তম বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। দেশের বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে বিনিয়োগের মনোভাব দুর্বল হওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলা না করলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রমজান মাসের শুরুতে এই সময়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, বলে বলেন, সরকারের জন্য রমজান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বড় এক পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই একত্রে কাজ করতে হবে, এর জন্য সরকারকেও সফল হতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের স্বার্থে, সুতরাং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা চেয়ে, সবাই মিলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।





