মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব, অপহরণ ও মারধরের ঘটনার কারণে সাধারণ জেলেদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০ জন জেলে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় অনেক জেলেই এখন সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জিম্মি জেলেদের রক্ষা ও দস্যু দমনের জন্য সুন্দরবনে বৃহৎ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বিশেষ কম্বিং অপারেশন।

কোস্ট গার্ড ও জেলে মহাজনরা জানিয়েছেন, বনদস্যুপত্রনেএবং অপহরণের ঘটনাগুলো সাধারণ জেলেদের জীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। দস্যুদের দ্বারা অপহরণ, মারধর, এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে, যা না দিতে পারায় অনেক জেলেকে নৈরাশ্যকর নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এই আতঙ্কে দুবলার চরসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা বর্তমানে তীরে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

সুন্দরবনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই দ্ববলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ বিভিন্ন গহীন খালে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়। এই বিশেষ কম্বিং অপারেশনে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ একযোগে অংশ নিয়েছেন।

দিনভর বনের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হলেও এখনো পর্যন্ত অপহৃত জেলেকে উদ্ধার বা দস্যুদের আটক করতে সক্ষম হয়নি। তবে বাহিনী জানিয়েছেন, জেলেদের উদ্ধার ও সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাগরে মাছ ধরা শেষ মৌসুমে দস্যু আতঙ্কের কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, যার ফলে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা উঠেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। জেলেরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।