মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঠিক উৎসবের সময় জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়ন এলাকায় নাটকীয় ঘটনায় দেখা গেছে। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। তারা এই অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই ঘটনা ঘটেছে দলীয় কার্যালয়ের সামনে, যেখানে তারা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। এই সময় তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পতাকা উত্তোলন ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সক্রিয় নেতাদের সমর্থন ও নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল, ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।
তবে পতাকা উত্তোলনের পরে নেতাকর্মীরা দ্রুত কার্যালয় থেকে সটকে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগারচর ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মহল এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন।
বিশেষ করে, গণঅধিকার পরিষদের বকশিগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দিয়ে আনন্দ উদযাপন করে। এর জন্য দায়ী আওয়ামী রাঘববোয়ালদের বিচারে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে এইসব নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দোষীদের গ্রেফতার দাবি করেন। না হলে ছাত্রজনতা উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি রীতিমতো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ও নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।





