বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস শুরু করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের প্রতি সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল বা চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকলেও, আজ থেকেই এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে তারা।

রপ্তানির সাম্প্রতিক ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একেকটি পণ্য নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে রপ্তানি পণ্য বিচিত্র করতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়াও সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে আছেন। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরো খুবই কম, ভুল হওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতি দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও এর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের কাছে রয়েছে, আবার পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় পণ্যও রয়েছে। এ কারণে বাজারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানান তিনি।

রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রশ্নে, তিনি জানান, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজে দেখাতে চান। বলেন, আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।

প্রথমে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। মানুষ মাসের শুরুতেই বেশ বড় পরিমাণে বাজার করে নেয়, এটি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, এ প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের ওপর মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগের শর্ত পূরণ হয় না। তিনি আরও জানান, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরোনো না গেলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রমজানের শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, রমজান আগে থেকেই একটা বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে, এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এটি ব্যক্তি বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের প্রশ্ন। এ জন্য সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। ভুল হলে তা ধরিয়ে দিতে সবাইকে অনুরোধ করেন, বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।