প্রবাসীরা দেশটিতে ঈদুল ফিতর, জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে আগের থেকেও বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায়, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছুঁই ছুঁই করেছে দুই বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি ডলার), যা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে এই মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাও করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট এবং রমজানের সময় পরিবারের বাড়তি খরচ মোকাবিলা করতে প্রবাসীরা আরও বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, মার্চ ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতর সময় ৩২৯ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে, মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। সেখানে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই অগ্রগতি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য আশার সূচনা করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে, ieএমএফের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ কিছু কম—প্রায় ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে। ব্যাংকখাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়াসহ, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতা লাভ করেছে।





