সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতকে এগিয়ে নিয়ে আসতে সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাহসী উদ্যোগগুলি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও গুরুত্বের সঙ্গে তার সেই কাজগুলো অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত কিছু সময়ে অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যে সব সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর জন্য তিনি তাদের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে এগুলোর স্থায়ী বাস্তবায়ন ও আরও উন্নত করার জন্য এই উদ্যোগগুলো চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের মাধ্যমে এসব কথা জানান। এটি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রকাশ পায়।
নতুন গভর্নর তার প্রথম দিনই নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলোর পুনরায় চালু করতে দেশের ব্যাংকিংখাতের সহায়তা প্রদান।
আরিফ হোসেন খান জানান, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে মোস্তাকুর রহমান কাজ করবেন। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে তিনি নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করার প plán ে উঠেছেন। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর। পাশাপাশি, উচ্চ সুদের হার যা বিনিয়োগের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হবে। কাজের দ্রুততা বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপত্র জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মব’ কেলেঙ্কারিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, নতুন গভর্নর বলেছেন তিনি ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। যারা এই মব কালচার বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের खिलाफ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যথাযথ নিয়মবিধি অনুসরণ করা হবে।





