বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে টিকতে হলে শ্রীলঙ্কাকে অবশ্যই নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হতো। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক একটি ম্যাচে ৬১ রানে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে শ্রীলঙ্কার জন্য ইতিমধ্যে কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে এখন সেমিফাইনাল খেলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এসেছে। টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড, তাদের দুই ম্যাচে সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে, শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড, যারা দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে। পাকিস্তান একটি পয়েন্ট পেয়েও তৃতীয় স্থানে রয়েছে, আর দুই হারে শ্রীলঙ্কার দল এখন টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে।
শ্রীলঙ্কার জন্য দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, ১৬৯ রানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাটে নামা তাদের শুরুতেই ঝুলিতে ভালো কিছু রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রথম বল থেকেই তারা ক্রমশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কিউই পেসার ম্যাট হেনরি প্রথম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে দুই লঙ্কান ব্যাটারকে ফেরান। তার মধ্যে পাথুম নিশাঙ্কা শূন্যরানে আউট হন প্রথম বলেই, আর তৃতীয় ওভারে চারিথ আসালাঙ্কাও আউট হন। এই সময়ে রানরেটের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।
এরপর স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রের দৌরাত্ম্যে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তিনি একের পর এক বলের মাধ্যমে চারজন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দলের হাল কাটেন। কুশল মেন্ডিস, পাভান রতœায়েক, দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকা ও দুসান হেমন্ত—সবাই রানসংখ্যায় তুলনায় কম করেন। এই অঙ্কন শ্রীলঙ্কার জন্য এক ধরণের অধ:পতনের সূচনা করে।
অন্যদিকে, দুনিথ ভেল্লালাগেকে নিয়ে প্রতিযোগিতায় থাকলেও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ২৩ বলে ৩১ রান করেছেন। দলের আরও কিছু ব্যাটার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। ভেল্লালাগে ২৯ রানে থেকেও আউট হন। চামিরা ৭ রানে এবং থিকসানা অপরাজিত থাকেন ২ রান করে। সব মিলিয়ে, ২০ ওভারে তারা ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান করে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন রাচিন রবীন্দ্র, যা তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং। ম্যাট হেনরি দুটি উইকেট পান।
এদিকে, ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায় লঙ্কান দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ওপেনার ফিল অ্যালেন শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমে চেষ্টা করেন ঝড়ো সূচনা দিতে। তবে চতুর্থ ওভারে থিকসানা তাকে ফিরিয়ে দেন। অ্যালেন ১৩ বলে ২৩ রান করেন। আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট মাত্র ৮ রানে আউট হন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস মিলে একটি ইতিবাচক জুটি গড়ে তোলেন, তবে তার পরই রান গতি মন্থর হতে থাকে। ১২ থেকে ১৬তম ওভারের মধ্যে রানের গতি খুব ধীর হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে রবীন্দ্র ৩২, ফিলিপস ১৮ রান করেন। এরপর, দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি ক্রিজে ঢুকে দলকে চাপ থেকে মুক্তি দেন। দুই ব্যাটার ৮৪ রান গড়েন, যেখানে স্যান্টনার ২৬ বলে ৪৭ রান করেন, এবং ম্যাককঞ্চি অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা তিনটি করে উইকেট নেন। দুনিথ ভেল্লালাগে একটি উইকেট পান। সকল দর্শক ও সমর্থকদের জন্য এই ম্যাচ ছিল হাড্ডাহাড্ডি কৌশল ও মানসিকতাবিরোধী এক লড়াই। শ্রীলঙ্কার জন্য এই হারের ফলে তাদের এখন বিদায় নিশ্চিত, তবে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, তারা যেন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।





