শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে শ্রীলঙ্কা বিদায় নিল সেমিফাইনাল থেকে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কাকে জয়ই করতে হত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড তাদের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে বন্ধ ঘোষণা করে জয় পায় ৬১ রানে। এর ফলে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়, আর বিপরীতে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যায়। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। যদি পাকিস্তান হারে শ্রীলঙ্কার কাছে, তবে নিউজিল্যান্ডের জন্য হেরেও চলে যাবে তারা সেমিফাইনালে। আবার, যদি স্যান্টনাররা ইংল্যান্ডকে হারাতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে সেরা চারদলে পৌঁছে যাবে। তবে, পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায় এবং নিউজিল্যান্ড শেষ ম্যাচে হারে, তখন রানরেটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, পাকিস্তান এক পয়েন্টে তৃতীয় স্থান ও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দুটি হারে তলানিতে।

ম্যাচের শুরুতেই নীল আকাশের নিচে জোড়ালো শুরু করে নিউজিল্যান্ড। প্রথম বলেই পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাটারকে ফেরান কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। পাথুম নিশাঙ্কা শূন্যরানে আউট হন, আর তৃতীয় ওভারেই চারিথ আসালাঙ্কাকেও আউট করেন তিনি। আসালাঙ্কা যিনি ৯ বল খেলেছেন, সতর্কতার সাথে মাত্র ৫ রান করেন।

এরপর রাচিন রবীন্দ্র তার স্পিন বোলিং দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে কোণঠাসা করে ফেলেন। একের পর এক ব্যাটার কে ফিরিয়ে নিয়ে ম্যাচের কৌশল অধিকার করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে প্রত্যেকে আলাদাভাবে রান করেন — কুশল মেন্ডিস ১১, পাভান রতœায়েক ১০, দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকা ৩ ও দুশমান্থা হেমন্ত ৩।

অপর দিকে, দুনিথ ভেল্লালাগেকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান কামিন্দু মেন্ডিস। কিন্তু এই লড়াই ম্যাচ জয় করতে যথেষ্ট ছিল না। ২৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন তিনি। ভেল্লালাগে থাকেন ২৯ রানে। অন্যরা অবদান রাখেন চামিরা ৭ রান ও থিকসানা ২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলশ্রুতিতে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান করে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান রাচিন রবীন্দ্র, যা তার আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া দুটি উইকেট পান ম্যাট হেনরি।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনার ফিল অ্যালেন ঝাঁকি দিতে চাইছিলেন, কিন্তু চতুর্থ ওভারেই থিকসানার বলে শূন্যরানে ফেরেন। তিনি ১৩ বল খেলেছেন, ২৩ রানে আউট। অন্য ওপেনার টিম সেইফার্ট মাত্র ৮ রানে থাকেন।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস বলে সফলতা দেখান। দুজন গড়েন ৪৩ রানের জুটি। এরপর ব্যাটিংয়ে গতি ধীর হয়ে গেলে পাকিস্তানিরা বেশ কষ্টে পড়েন। ১২ থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত মাত্র ১৫ রান আসে। রাচিন ৩২, ফিলিপস ১৮, মিচেল ৩ ও চ্যাপম্যান শূন্যরানে আউট হন।

শেষ চার ওভারে চাপ মোকাবিলা করে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। দুজনের জুটি গড়ে ৮৪ রান। স্যান্টনার ২৬ বলে দুটি চার ও চার ছয়ে ৪৭ রান করেন। আর ম্যাককঞ্চি ২৩ বলের মধ্যে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা। এক উইকেট পান দুনিথ ভেল্লালাগে।