রবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এফবিআই সাক্ষাৎকার নথিতে কিশোরী বলেন—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) সম্প্রতি প্রকাশ করেছে একাধিক এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, যেখানে একজন নারী দাবি করেছেন—কৈশোরে তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে এবং অভিযুক্তের মধ্যে ওই ব্যক্তির নাম ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ৩০২ নামের ফাইলে থাকা তিনটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপে ওই নারী তার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কিশোর বয়সে তিনি জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তখন থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন—ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য ট্রাম্পের শরীরের একটি ব্যক্তিগত অংশে কামড় দেন। এর পর ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করলে তিনি আহত হন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।

এফবিআই ২০১৯ সালে এ নারীর সঙ্গে মোট চারবার কথা বলেছে; আগে বিচার বিভাগ সেই সাক্ষাৎকারগুলোর মধ্যে মাত্র একটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নথিতে ওই নারীর আরও কয়েকটি দাবি দেখা গেছে—তার মধ্যে একটি রয়েছে যে ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয়ের পর ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগ বলেছে যে এ প্রকাশিত নথিগুলোর অনেকটিতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতি থাকতে পারে এবং কিছু অংশে ‘‘অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি’’ থাকতে পারে। রয়টার্সসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে তারা এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইর নথিতে ইঙ্গিত আছে, ২০১৯ সালের পর থেকে তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেন এবং অব্যাহতভাবে অভিযোগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যগুলোতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং নথি বিষয়ে আগের প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা নথিগুলো ১৫টি নথির অংশ ছিল, যেগুলিকে ভুলবশত ডুপ্লিকেট চিহ্নিত করা হওয়ায় আগে প্রকাশ করা হয়নি। এ নথি প্রকাশকে ঘিরে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে—কিছু নথি গোপন করা হয়েছিল কি না সেই অভিযোগে রাজনৈতিক তর্ক চলছে। এ বিষয়ে প্রতিনিধি পর্যায়ের একটি কমিটি বিচার বিভাগকে কার্যਪদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে উপস্থাপনকারীদের তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ট্রাম্প আগে বলেছেন যে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০-এর মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং এপস্টেইনের অপরাধসমূহ সম্পর্কে তিনি কখনোই অবগত ছিলেন না। বিচার বিভাগের পুরনো নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে কয়েকবার ভ্রমণ করেছিলেন—একথা নথিতে আছে, যদিও ট্রাম্প যেসব তথ্য অস্বীকার করেছেন।

নথিগুলোতে অনুমোদিত ভাষ্য ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম নির্বিশেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগকারী ওই নারী নিজে এফবিআইকে জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে তৎপর হওয়া সম্ভবত ফলপ্রসূ হবে না।

সূত্র: পলিটিকো, এএফপি/রয়টার্স — প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নথি ও সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপ