সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইউটিউবার ন্যান্সি গ্রেওয়ালকে কুপিয়ে হত্যা

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উইন্ডসর শহরে জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ন্যান্সি গ্রেওয়াল (৪৫)কে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে টড লেন এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়; আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মহানगरीয় পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, রাত সাড়ে ন’টার দিকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও প্যারামেডিকরা ন্যান্সিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এই হামলাটি ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে, তবে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত দ্রুত চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে কানাডা স্ট্রিট ও বিশপ স্ট্রিটের দু’টি বাড়ি সিল করা হয়েছে।

ন্যান্সির মা শিন্দরপাল কৌর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই তার কন্যাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং কয়েক মাস আগেই তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শিন্দরপাল কৌর স্থানীয় একটি গুরুদ্বারের এক ব্যক্তিসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এবং দাবি করেছেন যে সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার পর থেকেই ন্যান্সিকে ভয় দেখানো হচ্ছিল।

ন্যান্সি গ্রেওয়াল পাঞ্জাবের জলন্ধরের বাসিন্দা ছিলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য খ্যাতি পেয়েছিলেন। তার কনটেন্টে মূলত খালিস্তান বিরোধী তৎপরতা এবং খালিস্তানপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা দেখা যেত। তিনি বিশেষ করে অমৃতপাল সিং, বিক্রম সিং মাজিথিয়া এবং গুরিন্দর সিং ডিলনকে টার্গেট করে সমালোচনামূলক ভিডিও বানাতেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাজনিত বিষয়গুলোতে ভারতপক্ষকে সমর্থন করে তিনি বেশ কিছু বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছেন, হত্যার সরাসরি নেপথ্যকারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে — ন্যান্সির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট, সম্প্রতি কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিকে কটাক্ষ করা, কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা— যেকোনো দিকই তদন্তাধীন। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা চূড়ান্ত অভিযোগ আনা হয়নি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘৃণা-ভিত্তিক বা রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা থাকলে তা আলাদা করে খতিয়ে দেখা হবে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন বা সন্দেহজনক কোনো আচরণ দেখেছেন তাদের পুলিশকে তথ্য দিতে অনুরোধ করেছে। তদন্তের নতুন তথ্য পেলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত জনসম্মুখে তা জানাবে।