বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সংঘর্ষে আহত জামায়াত আমির মফিজুর রহমানের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মারা গেছেন। তিনি ঢাকার কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান বলে জানায় জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার।

আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার জানান, ‘গতকাল থেকে মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটপূর্ণ ছিল। আজ দুপুরে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির রুহুল আমিন ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন; তিনি ঢাকায় পৌঁছালে লাশ নেওয়া হবে কীভাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগ ও হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর মধ্যে বিরোধ নিয়ে। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের বিবাদ বেঁধে উঠে এবং তা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।

সংঘর্ষে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তাঁর বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ আহত হন। আহতদের মধ্যে প্রথমে যশোরে নেওয়া হয়েছিল; পরে মফিজুরকে অবস্থা সন্দিগ্ধ হওয়ার কারণে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেই রাতেই দুপুর দুইটার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু ঘটে এবং আজ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুরেরও মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে সংঘর্ষে বিএনপির তিনজনও আহত হন—নতুন করে বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০), তাঁর বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫) এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)।

ঘটনায় হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আটজনকে নাম দিয়ে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসীম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় নেতারা আহতদের চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কিত ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।