বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিরপুর পিচে সন্তুষ্ট সিমন্স, খুশি পাকিস্তান কোচও

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের সমালোচনার পরে এইবার পিচকে কেন্দ্র করে আশাবাদ এসেছে দুই দলের কোচের কণ্ঠে। বুধবার (১১ মার্চ) শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ- পাকিস্তান সিরিজের সব ম্যাচই মিরপুরে হওয়ায় সিরিজ শুরুর আগে পিচ দেখেছেন উভয় দলের অধিনায়ক ও কোচরা।

আগের Seasons-এ মিরপুর উইকেট নিয়ে বহুল অভিযোগ থাকলেও এবার প্রদর্শিত কন্ডিশন দেখে আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভালো ফল এনে আমরা যে গতি পেয়েছি, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। সাম্প্রতিক বিপিএলের খেলা দেখার পর তার দৃষ্টিতে মিরপুরের উইকেট অনেক উন্নত মনে হয়েছে। তাই তাদের মূল লক্ষ্য হবে ব্যাটিং ধার বজায় রাখা এবং মিডল ওভারগুলোতে উন্নতি করা — বিশেষ করে সেই সময়ে উইকেট নিতে বোলিংয়ের দিক থেকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

সিমন্স আরও যোগ করেন, ‘‘ক্রিকেটার হিসেবে সবারই ভালো পিচে খেলার আগ্রহ থাকে যাতে দক্ষতা পরীক্ষিত হয়। বর্তমানে উইকেট আগের চেয়ে অনেক ভালো দেখাচ্ছে।’’ তিনি মনে করছেন যদি উইকেট এই রকমই থাকে, দলটি গত ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে।

অন্যদিকে পাকিস্তান কোচ মাইক হেসনও এ সময় পিচের প্রশংসা করেছেন — যা কিছুটা আশ্চর্যের হলেও উৎসাহব্যঞ্জক। কয়েক বছর আগে মিরপুর পিচকে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু এবার তাঁর মন্তব্যে ছিল ইতিবাচকতা। তিনি বলেন, পিচ এবং আউটফিল্ড দুইই ভালো দেখাচ্ছে; সেখানে এখন বেশি ঘাস থাকায় ব্যাট-বলের মধ্যে প্রকৃত লড়াই হবে।

হেসন বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন পিচ আদর্শ ছিল না, কিন্তু বিপিএলে থাকা পিচগুলো আশাব্যঞ্জক ছিল। বর্তমান কন্ডিশন দুই দলের জন্যই সমান চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশকে তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে সম্মান জানিয়ে তাই সিরিজটি প্রতিটি দলের জন্যই কড়া পরীক্ষা হবে।

তদন্তে দেখা গেছে, নতুন পিচগুলোতে ব্যাটিং-ও-বোলিং দুটোতেই সামঞ্জস্য থাকবে—এটা দর্শকদের জন্যও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দেবে বলে দুই কোচের মত। একদিকে বাংলাদেশ সম্প্রতি বেশ কিছু ৫০ ওভার ক্রিকেট খেলেছে, তাই পাকিস্তানের লক্ষ্য হবে দ্রুত ঐ ফরম্যাটে মানিয়ে নেয়া; অন্যদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে মিডল ওভারগুলোতে আরও শক্ত অবস্থান গড়া।

সিরিজ শুরুর আগের এই ইতিবাচক সুর ম্যাচের নাটকীয়তা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। পিচ ভালো থাকলে ব্যাটার-গুলোর রানের বাইরে বোলারদেরও পরীক্ষা নেওয়ার সমান সুযোগ থাকবে—ফলে শেষ পর্যন্ত দর্শকই উপকৃত হবেন।