বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাবি ছাত্র হত্যা: পিবিআই অভিযোগপত্র গ্রহণ, ২২ পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাখিল করা ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আজ (১০ মার্চ) গ্রহণ করেছেন ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা। একইসঙ্গে আদালত পলাতক ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

অভিযুক্তদের নামের তালিকায় আছে— জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।

তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ (বিপুল) ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে নারাজি জানানোর কথা বলেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো নারাজি দেননি।

পটভূমি: গত বছরের ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় পরে ২১ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তোফাজ্জল (৩৫) কে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।

অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হলের প্রাক্তন প্রভোস্ট ও ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা করা হয়েছিল, যা পরে স্থগিত ছিল। ঢাবি প্রক্টোরিয়াল টিম অভিযোগপত্রে জবাব দিতে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেনি বলে জানা গেছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।