ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ওইদিনই রাষ্ট্রপতি সংসদে বার্ষিক ভাষণ দেবেন। কিন্তু এই কক্ষেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মনোভাব পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ ও আপত্তির কথা সংসদে গৃহীত আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি মনে করছে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্ধিন আহমদ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’ তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন আগামীকাল সকাল ১১টায় শুরু হবে এবং সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; তাদের শপথগ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আরও বলেন, আগামী অধিবেশনে জুলাই সেশনের বিষয়বস্তুও আলোচ্য হবে।
আজ সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; আগামীকালের অধিবেশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সেখানে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের এমপি-দেরও একটি বৈঠক আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর; সংসদে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’ তিনি জানান, আগামীকালের সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে সে বিষয়ে বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক নতুন সদস্য থাকার কারণে সংসদের মান ও চরিত্র সম্পর্কে সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রশ্নে তাহের বলেন, প্রস্তাব এলে তারা বক্তব্য জানাবেন এবং এ বিষয়টি আগামীকাল স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, তারা মনে করেন রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষিত নয় এবং বিএনপি কেন তাঁকে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে; এ সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা কাল সংসদে প্রকাশ করা হবে।
পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আগামীকালকের অধিবেশন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে তর্ক-তিতিক্ষা ও উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





