বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের মঞ্চে পরিণত না হয়: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে জাতীয় সংসদ কোনো ব্যক্তির চরিত্রহননের কেন্দ্র হয়ে উঠবে না। তিনি বলেন, সংসদ যেন দেশের কল্যাণে কাজ করা একটি কার্যকরী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতের কিছু অধিবেশনে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয় নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহাননে ব্যয় হয়েছে।

শফিকুর রহমান স্পিকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন যে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পক্ষপাত দেখানো হলে চলবে না। ‘‘আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না—এমনটাই আমরা আশা করি। আপনার কাছ থেকে সুবিচার পাব, জাতির কল্যাণে আমরা যে কথা বলতে চাই, তা বলার সুযোগ পাব,’’ তিনি বলেন।

তিনি আশা ব্যক্ত করেন নতুন সংসদটি গতিশীল হবে এবং পুরনো খারাপ নজির পুনরাবৃত্তি হবে না। এছাড়া তিনি বলেন, আজকের এই সংসদে অনেক নতুন তরুণ সদস্য এসেছেন। বয়সে হয়তো আমিও কিছুটা বড়, তবু নিজেকে তরুণ মনে করেন এবং বললেন—তার জীবনে এটি প্রথম সংসদ।

বিরোধী দলীয় নেতা পুনরায় বলেন, অতীতের সংসদগুলোতে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়গুলো ভুলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের জন্য সময় ক্ষেপণ হয়েছে; নতুন সংসদে এ ধরনের আচরণ বন্ধ হওয়া জরুরি। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন কেউ সামান্যতম সুযোগও পায় না কারো চরিত্রহননের জন্য।

বক্তব্যের শেষভাগে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় জীবনে ঘটে যাওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও গুমের ঘটনাসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন যে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেকে জীবনও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন।’’ এরপর তিনি আবারও পুরনো স্লোগান উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’—এখনও তিনি সেই স্লোগান দিতে চান।