খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মার্চ মাসের সভা রবিবার (১৫ মার্চ) জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রমজানে節শৃঙ্খলা ও বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় করার প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানদের গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক উপস্থিত সকলকে অনুরোধ করেন মাহে রমজানে節সংযম বজায় রেখে সরকারি জড়বহুলতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং জ্বালানি বিপর্যয় এড়াতে প্রতিটি দপ্তর তাদের কার্যক্রমে কৃচ্ছ্রতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত কার্যক্রম প্রয়োজন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান সভায় বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও মশা নির্মূল করতে জেলার সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। তিনি সাধারণ মানুষকেও গৃহস্থালী পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানির জমা রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খুলনা জেলায় বোরো ফলনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯.৬৬ শতাংশ আবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং সবজি চাষে আবাদ শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যক্রম চলছে। তিনি কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রযুক্তি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পবিত্র রমজান শুরু থেকে সস্তায় ডিম, দুধ ও মাংস বিক্রির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। জেলার ১০টি স্থানে এরই মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৩ পিস ডিম, ৫ হাজার ৮১৬ লিটার দুধ, ৪ হাজার ৪১৯ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মাংস, ২ হাজার ৭০৭ কেজি ড্রেসড সোনালি মুরগির মাংস, ৬ হাজার ৫৪৫ কেজি গরুর মাংস এবং ৫০১ কেজি খাশির মাংস বিক্রি করা হয়েছে। এসব সামগ্রীর মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৮ টাকা বলে তিনি জানান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামান সভায় জানানো হয়, রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি সংরক্ষণে অনিয়ম রোধে অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি অভিযান এবং তিনটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪০৮ কেজি চিংড়ি বিনষ্ট করা হয়েছে এবং ৬৫,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সভায় জানান, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মীর সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আসন্ন রমজানে যাকাতের একটি অংশ ফাউন্ডেশনের যাকাত বোর্ডে দানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওই দান আয়করমুক্ত হবে এবং তা ত্রাণ ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে উল্লেখিত সঞ্চালনা ও তদারকির মাধ্যমে রমজানকালে জনগণের কল্যাণ ও নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।





