সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিরসন এবং আদালতে মামলা দায়েরের আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতিতে समाधान নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার বুধবার জারি করেছে।

নতুন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার ব্যবস্থায় মামলা কমানো এবং অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়তে পারে এমন ঋণবিষয়ক বিরোধগুলো আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধান করার সুযোগ তৈরি করা।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করে দেখাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সময়সীমা নির্ধারণকে ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নে নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বারোপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বর্তমান অনাদায়ী ঋণের পর্যাপ্ত পরিমাণের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১ শতাংশ আদায়কে জাতীয় পর্যায়ের ঋণ পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হলেও এবার বিশেষভাবে আদালতে যাওয়ার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছেন যে, Banks must select mediators from panels constituted by specialised dispute-resolution service providers in accordance with existing law. এসব প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবীকে রাখা যেতে পারে।

সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য দশটি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনগত রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি ঋণগ্রাহক না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যাংকগুলোকে একটি কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া তফসিলি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের কাছে এই মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার সুবিধা বুঝে তা গ্রহণ করতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেন, আদালতের বাইরে দ্রুত ও স্বল্পখরচে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ কমলে না শুধু মামলার জট কমবে, বরং ব্যাংক খাতের আর্থিক চাপও হালকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।