বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে দুই সিটি করপোরেশনকে তৎপরতা বাড়াতে বলেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহানগর (ঢাকা) নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। তিনি নিয়মিত জানতে চান আমরা কী কী কাজ করছি, কোথায় কাজ বাকি আছে এবং কোথায় কী করতে হবে। দুই সিটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর শহরের পরিস্থিতিতে কিছু উন্নতি দেখা গেছে, বিশেষত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।’

তিনি আরও জানান, যারা দিনরাত বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছেন তাদের জন্য সরকার ঈদ উপহার হিসেবে বোনাস দিয়েছে। ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দিনরাত যারা কাজ করে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের বোনাস হয়েছে’—এই কথাও জানান তিনি এবং বলেন কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। ডিএসসিসি প্রশাসক বললেন, ‘যতটুকু হয়েছে তাতে খুশি নন; আরও অনেক কাজ বাকি আছে। খাল-নর্দমা ও বর্জ্যব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আধুনিক করা যায়—এই বিষয়গুলোতে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’ তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে আরও কাজ হবে।

দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। ‘বহিরাগত আমদানির ওপর কেন নির্ভর করা হবে? আমাদের লোকাল ইঞ্জিনিয়ার ও স্টুডেন্টরা কি দেশেই প্রয়োজনীয় ভেহিক্যালস, ডাম্পিং ট্রাক এবং স্পেয়ার পার্টস তৈরি করতে পারবে—এ ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। তিনি চান লোকাল অংশগ্রহণ বাড়ুক, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমুক’—ডিএসসিসি প্রশাসক এসব বক্তব্য রাখেন।

ঈদকেন্দ্রিক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদ নিয়ে যেসব নির্দেশনা হয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি মিটিং করা হয়েছে। যারা শহর ছেড়ে যাবে তাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার জন্য বাস টার্মিনালগুলো ও আশপাশের রাস্তা-ঘাট কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রতি সপ্তাহেই জানতে চান, সেই ধারাবাহিকতায় আজ তাদের এখানে ডাকা হয়েছিল।

মশা নিম্নে জনসাধারণের অস্বস্তি কমাতে করণীয় সম্পর্কে তিনি জানান, ‘মশা মোকাবিলায় সময় লাগে। আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে, আমরা নিয়মিত মনিটারিং করছি। উত্তর সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় কাজ কষ্টসাধ্য হচ্ছে; তাই ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।’

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মশা কেবল কীটনাশক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে যে খাল, নর্দমা ও ড্রেন বন্ধ হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য একটি তীব্র পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে খালের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো খনন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বর্ষার আগেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব—এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

প্রতি দিক থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)ও কাজ করছে। নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উন্নয়নে বুয়েটের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরে বুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান সাংবাদিকদের জানান, বর্জ্য অপসারণে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বুয়েট উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বাস্তবায়ন এবং দেশে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ের জন্য এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।