শনিবার, ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈদযাত্রায় ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকার টোল আদায়

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় তিন দিনে পদ্মা সেতুতে ব্যাপক যানবাহন চলাচল ও রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার—শুরু হিসেবে ১৭ মার্চ থেকে বুধবার ১৮ মার্চ ও বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ পর্যন্ত মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার করা হয়েছে। যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। একই সময়ের টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। ফলত চলতি বছরে টোল আদায়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার এবং পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দিনগুলোয় প্রতিদিনের বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ মার্চ পদ্মা সেতু দিয়ে ৩৮ হাজার ৫১৭টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ মার্চ ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন চলাচল করে, ওইদিন টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা। ১৯ মার্চ ৩৯ হাজার ২৮০টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা।

মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন চলাচল ও সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলকও অতিক্রম করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ জানান, টোল প্লাজায় একাধিক লেন সচল রাখায় যানবাহন দ্রুতগতিতে পারাপার করা সম্ভব হয়েছে, ফলে ঈদযাত্রায় আগের মতো ভোগান্তি কমেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু উত্তরের অংশে যানজট নেই, যা ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করেছে।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে ঈদকেন্দ্রিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে টোল আদায় ও যানবাহন চলাচলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।