রবিবার, ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শনিবার খুলনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর সজিভভাবে উদযাপিত হলো। ভোর থেকেই শহরজোড়া উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল—বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং প্রধান সড়কগুলো বাংলা ও আরবি ভাষায় লেখা ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানারে সাজানো ছিল।

ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। সকাল নয়টায় দ্বিতীয় ও দশটায় তৃতীয় জামাত একই মসজিদে আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনাসহ বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লীরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মখতার আহমেদ, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনিক উর্দ্ধতনরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বও স্থান নেন এবং প্রচুর ধর্মভীরু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শহরের অন্যান্য প্রধান মসজিদে নিয়ন্ত্রিত সময়সূচি অনুযায়ী জামাত অনুষ্ঠিত হয়—খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় জামাত হয়েছে। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে নির্ধারিত সময়ে আয়োজিত জামাতে হাজারীব্যাপী মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষভাবে আয়োজিত জামাতের মধ্যে ছিল নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ জামে মসজিদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদ, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ এলাকার মসজিদ, নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, ফেরিঘাটের আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদ, আড়ংঘাটা, নতুন রাস্তা জামে মসজিদ, দক্ষিণ কাশিপুর জামে মসজিদ, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনী মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন এলাকায় মসজিদ, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস মসজিদ, বিএল কলেজ এলাকার মসজিদ, দেয়ানা ও সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার মসজিদ, খানজাহান নগর খালাসী মাদ্রাসা, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় হওয়া মসজিদসমূহ উল্লেখযোগ্য।

ঈদ উপলক্ষে সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগও চলমান ছিল। শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফহোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।

বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোও নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। উপকেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপভাবে স্থানীয় কর্মসূচি ও জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

সারা শহরে ঈদের আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে পড়ে; মুসল্লিরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিনটিকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পালিত করেন।