সোমবার, ২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৪টি কনসার্টে দিলজিৎ আয় করলেন প্রায় ৯৪৩ কোটি

কনসার্ট মানেই কেবল গান-শো নয়—এটা বড় একটি অর্থনৈতিক পদচিহ্নও তৈরি করে। সেই বাস্তবতাই ফের প্রমাণ করলেন বলি ও পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ। মাত্র ১৪টি শো ও ১৩টি শহরে তাঁর ‘ডিল-লুমিনাটি’ ট্যুর থেকে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকার আশেপাশে।

টিকিট বিক্রি থেকেই এসেছে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ২২১ কোটি টাকা। স্পনসরশিপ থেকে হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটির বেশি। টিকিট ও স্পনসরশিপ ছাড়াও মিডিয়া ও আনুষঙ্গিক উৎস থেকে আয় যোগ হয়েছে, ফলে প্রতিটি শো একেকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব — ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল, খাবার ও কেনাকাটা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার সম্পূরক অর্থনীতি। স্ট্যাটিসটিক অনুযায়ী দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশই অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত রয়েছেন, ফলে কনসার্টগুলোর আশপাশের পর্যটন ও ব্যবসায় অপেক্ষিত চাহিদা বেড়েছে।

দর্শক উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো ছিল। ১৪টি শোতে মোট দর্শকসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি; বিশেষ করে দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি শো আগেভাগেই হাউসফুল হয়েছে। বিশ্বমঞ্চের বড় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা গেলে এখনও কিছু জায়গায় পিছিয়ে থাকতে পারে, তবু এই ট্যুর দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে শানিত করেছে।

ট্যুরটি শুধু বিনোদন নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করেছে—লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা ক্ষেত্রে এই আয়োজন সরাসরি ও পারোক্ষে কাজের সৃষ্টি করেছে; মোট মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টার কর্মসংস্থান।

সংক্ষেপে, দিলজিৎের এই ট্যুর দেখিয়েছে যে আধুনিক কনসার্ট artık শুধু স্টেজ ও সাউন্ড সিস্টেম নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যা স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানকে গতানুগতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।