মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আকাশপথকে অনিশ্চিত করে তুলায় আইপিএল শুরু হওয়ার আগেই ভারতকে বিদেশি খেলোয়াড়দের আনতে বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে। তদুপরি, একের পর এক চোটের ধাক্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চিন্তায় ডুবে আছে—কোনো কোনো তারকা পুরো মরশুমই মিস করবেন, আর কেউ কেউ টুর্নামেন্টের শুরুতেই দলের বাইরে থাকছেন।
প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এই আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্ব দেবেন বলে রাখার চল ছিল। তবে পিঠের চোটের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যায় ভুগছেন। তাই আইপিএলের শুরুর কিছু ম্যাচ তিনি মিস করবেন এবং হায়দরাবাদ শুরুর দিকে নেতৃত্বভার ইশান কিষাণকে তুলে দিয়েছে। পরবর্তী সপ্তাহে কামিন্স স্কোয়াডে যোগ দিতে পারেন—সেটা নিশ্চিত হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর।
মিচেল স্টার্ক: বাঁ-হাতি পেসার স্টার্ক বর্তমানে কোনো সরাসরি ইনজুরিতে নেই, কিন্তু অতিরিক্ত কাজের বোঝা এবং সাম্প্রতিক সময়ের ক্রিয়াকলাপ বিবেচনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তার ফিটনেস নিয়ে খুবই সতর্ক। কামিন্স-হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে স্টার্ককে গুঁড়ো-জিনিস সামলাতে হয়েছে, তাই এখনও পুরোদমে দল যোগ করার বিষয়ে ঝুঁকি নিতে কোনো পক্ষই তৎপর নয়। দিল্লি ক্যাপিটালস কেবলই ইতিবাচক ফিটনেস রিপোর্ট পেলে তাকে দলে চান।
জশ হ্যাজলউড: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেখানে হ্যাজলউডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এবার হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসের চোটের কারণে তিনি গ্রীষ্মকালীন সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বড় অংশ ওভারের বাইরে ছিলেন। এখনও পুনর্বাসনের মধ্যে থাকায় শুরুর কিছু ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত থাকতে পারেন; ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্ট পাস করলেই আইপিএলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নাথান এলিস: সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও নাথান এলিস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই আইপিএল মরশুমই মিস করতে হচ্ছেন। চেন্নাই সুপার কিংস হিসেবে তাঁর হাতে থাকা পেস অ্যাটাকে জোর ছিল, কিন্তু এখন দলকে বিকল্প পাস খুঁজতে হবে।
স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান ট্রেডের পথে রাজস্থান রয়্যালসে চলে যান। তবে গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে তিনি পুরো মৌসুম মিস করতে পারেন এবং নতুন জার্সি তৎক্ষণাত গায়ে তুলতে পারছেন না। চোটের কারণে রাজস্থানের দল সমীকরণে তাঁর অনুপস্থিতি প্রকট প্রভাব ফেলবে।
জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেকের কথা থাকা অস্ট্রেলিয়ান পেসার জ্যাক এডওয়ার্ডস পায়ের চোটে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেওয়া এই আনক্যাপড পেসারের অনুপস্থিতিও হায়দরাবাদের বোলিং অপশনে বড় প্রভাব তৈরি করেছে, বিশেষ করে যখন অধিনায়কেরাও শুরুর দিকে জোটেন না।
লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে টুর্নামেন্টের শুরুটা মিস করবেন—সম্প্রতি বাবা হওয়ায় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। তবে টুর্নামেন্টের শেষভাগে দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন নিরাপত্তাজট ও চোট—এই দুই চ্যালেঞ্জকে বিবেচনায় নিয়ে স্কোয়াড পরিকল্পনা ও বিকল্প খেলোয়াড় তালিকায় দ্রুত কাজ করতে বাধ্য। আইপিএলের ভক্তরা চমকপ্রদ ক্রিকেটের অপেক্ষায় থাকলেও এই অনিশ্চয়তা ও খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ইনিংসের রূপকাঠামো বদলে দিতে পারে।





