চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের দিন বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের নামাজ শেষে পুরনো বিদ্বেষ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় যা পরে দুপুরে ব exchange ধাক্কা-সংঘর্ষে পরিণত হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন; গুরুতর অবস্থার কয়েকজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন ছত্রপাড়া গ্রামের প্রয়াত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম উদ্দীন কাজি (৭৫) ও নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘর্ষের সময় নাতি শিমুল আহত হওয়ার খবর পেয়ে দাদা নাজিম উদ্দীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান—পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে গুরুতরভাবে আহত শিমুলকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে বলে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানিয়েছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির দুটি পক্ষের উল্লেখযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বের কথা বলে অভিযোগ উঠেছে; একাংশের দাবি, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ ও উপজেলা যুবদল সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ‘জাহাঙ্গীর গ্রুপ’ প্রতিপক্ষ ‘কুবির কাজি গ্রুপ’-এর উপর হামলা চালায়, যার ফলে কুবির কাজিসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বনি ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের মধ্যে এই সহিংসতায় বহু পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।





