মঙ্গলবার, ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে গত হামলা-ভাঙচুরের মামলায় একজন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ৪০ বছর বয়সী সুমন পাইক, যিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ মার্চ শনিবার সন্ধ্যার আগে। ওই দিনে তেলের তীব্র সংকট ও চাহিদার চাপের মধ্যে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার সময় মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা তেল দেওয়া হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে। এ সময় কয়েকজন অনধিকারভাবে পাম্পে প্রবেশ করে অধিক টাকা দাবি করে এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। বিবাদ বাড়লে, এজাহারে উল্লেখ করা অনুসারে সুমন পাইকের নেতৃত্বে তারা কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। তখন কর্মচারী তানবির মল্লিক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ রেজোয়ান সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে হামলাকারীরা পাম্পের কোষাগার থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি পাম্প বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ‘‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’’ শিরোনামে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্ররা লুটপাট, ভাঙচুর ও মালিক-কর্মচারীদের জীবননাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়; তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে সুমন পাইককে প্রথম নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় এজাহারনামা অনুযায়ী এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য যুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। মুর্শিদ কুলি খান জানান, প্রধান আসামী গ্রেফতার হয়েছে; তারা ডিপো থেকে তেল প্রাপ্তির পর পাম্প নিয়মিতভাবে খুলে দেবেন।