বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পিএসএলেও যুদ্ধের ছোঁয়া, মুস্তাফিজদের ম্যাচ ভেন্যু বদল

মোস্তাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটার এবারের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে—আন্তর্জাতিক সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ভেন্যু, দর্শক উপস্থিতি এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদতে ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত ৩৯ দিনে ৪৪ ম্যাচ নির্ধারিত ছিল, এবং পাকিস্তানের ছয়টি ভেন্যুতে খেলাগুলো আয়োজন করার কথা ছিল—করাচি, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সালাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ায় টুর্নামেন্টের পরিধি সংকুচিত করে কেবল লাহোর ও করাচিতে ম্যাচ আয়োজন করার ঘোষণা করা হয়েছে।

টিকে রাখা হয়েছে টুর্নামেন্টের সময়সূচি, তবে সব ম্যাচ লাহোর ও করাচিতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলা হবে। উদ্বোধনী জমকালো অনুষ্ঠানও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পিএসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি বলেন, এত বড় সংখ্যক দর্শকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন; তাই চলমান পরিস্থিতি স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত স্টেডিয়ামে দর্শক রাখা হবে না—কঠিন হলেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন করে সাজানো সূচি অনুযায়ী ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৪ ম্যাচ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরবর্তী ১৫ ম্যাচ করাচিতে হবে। ২১ এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্ট আবার লাহোরে ফিরে আসবে। কোয়ালিফায়ার রাউন্ড রাওয়ালপিন্ডি থেকে সরিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়েছে করাচি ও লাহোরে, এবং ২৮ এপ্রিল এসব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।

প্রথম ম্যাচও নির্ধারিত রয়েছে—২৬ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে লাহোর কালান্দার্স এবং হায়দরাবাদ কিংসমেনের মধ্যে ম্যাচে মুস্তাফিজ খেলতে নামবেন।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে চিত্রও পরিষ্কার: মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও মোট ছয়জন বাংলাদেশি এই আসরে অংশ নিচ্ছেন। বাকি চারজনের মধ্যে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম এবং তানজিদ হাসান তামিম পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলবেন। তাদের প্রথম ম্যাচ ২৮ মার্চ রাওয়ালপিন্ডির (পিন্ডিজ) বিরুদ্ধে রয়েছে।

সংক্ষেপে, পিএসএল আগামী মাসে শুরু হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু গত বছরের পরিকল্পিত বহুভেন্যু, হাজার হাজার দর্শক এবং জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনের বদলে এবার নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রয়োজনে সবকিছুই দুটো প্রধান শহরে কেন্দ্রভিত্তিকভাবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। দর্শক না থাকলেও আলোচনায় থাকবে খেলাধুলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা—আর বাংলাদেশি ক্রিকেটরাও সেই মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখাবেন।