বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদকের তদন্ত

দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের তদন্তে নামেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও ঘটনার পরিধি নির্ধারণ করবে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রধানত বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত অবৈধতা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তলব করে নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ শুরু করেছেন।

দুদকের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিপিং করপোরেশনের এমডি থাকাকালীন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়—কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেবল ৪টি জাহাজ কেনা হয়। এই লেনদেনে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি শনাক্ত হয়েছে বলে দুদক সন্দেহ করছে।

এছাড়া মোংলা বন্দরের পাঁশুর চ্যানেল সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পিত ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। দুদকের অনুসন্ধানকারীরা ওই প্রকল্পের খরচ, চুক্তি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নথি জমা দিতে বলেছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের ঘটনা ও ফলাফল সম্পর্কে দুদক পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানাবে।