বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

রণবীর সিং দীর্ঘ আড়াই বছরের বিরতির পর সেদিনই প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছেন—আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি ‘ধুরন্ধর টু’ দিয়ে। প্রথম অংশ মুক্তির পর থেকেই সিক্যুয়েলের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে, এবং ১৯ মার্চ মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে নতুন লহর সৃষ্টি করেছে।

বক্স অফিসে বিভিন্ন সূত্র থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা প্রকাশিত হলেও ধারণাটাই স্পষ্ট: মুক্তির প্রথম চার দিনে ছবিটি বিপুল আয় করেছে। Sacnilk-এর রিপোর্ট অনুযায়ী চার দিনে ভারতের আয় (গ্রস) ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি, আর বিশ্বব্যাপী আয় ৬৯১.৩২ কোটি রুপি। এই হিসাব বাংলাদেশি মুদ্রায় হলে প্রায় ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সমান। অন্যদিকে কিছু অন্যান্য প্রতিবেদনে (Bolly Movie Review/News18) চার দিনের বিশ্বব্যাপী আয় ৬৯৫ কোটি রুপি হিসেবে দেখানো হয়েছে—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০৯ কোটিরও বেশি। মোটমিলিয়ে বলা যায় চার দিনে আয়ের অনুমানটি প্রায় ৯০৪–৯০৯ কোটি টাকার দিকেই দাঁড়িয়েছে।

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র

‘ধুরন্ধর টু’ নিয়ে সমালোচকদের মতামত মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের সমালোচক মনে করেছেন, ছবিতে অতিরিক্ত রক্তরঞ্জিত দৃশ্য ও প্রকাশ্য সহিংসতার উপস্থিতি বেশি; সেই সূক্ষ্মতা বা ব্যালান্স কিছু অংশে ছেঁড়া পড়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ রেটিং দিয়ে বলেছেন, এটি রোলার-কোস্টারের মতো একটি থ্রিলার; প্রথম পার্টের সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় এবং দ্বিতীয়ার্ধের টান ছবিটিকে উঠে যেতে সাহায্য করেছে। এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৫-এ ৩ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে ‘ধুরন্ধর টু’ মূলত রণবীর সিং-এর প্রদর্শনী—কিছু দৃশ্যে কাজটি প্রচণ্ড ও সরাসরি। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল সাড়ে ৩ রেটিং দিয়ে ছবির গল্প বলা ও বর্ণনার গভীরতাকে প্রশংসা করেছেন; তিনি লিখেছেন, বারবার টুইস্ট ও মোড় গল্পকে রোমাঞ্চকর রাখে।

রেকর্ড ও তুলনা

প্রথম দিনের আয়ে ‘ধুরন্ধর টু’ একাধিক রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছে—প্রথম দিনে (পেইড প্রিভিউসহ) এটি ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হিসেবে উঠে এসেছে; সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’। প্রথম দিনের বিশ্বব্যাপী আয়ের দিক থেকেও ‘ধুরন্ধর টু’ উচ্চ অবস্থানে—’পুষ্পা টু’ একদিনে ২৬০ কোটি রুপির শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিল; তাতে ‘ধুরন্ধর টু’ তার পাশে রয়েছে। একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী হিন্দি ভার্সনের ছবির তালিকায়ও রণবীরের এই ছবি ‘জওয়ান’ ও ‘পুষ্পা টু’কে ছাপিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে বলে প্রাথমিক খবর। তুলনায় ‘ট্রিপল আর’ ও ‘বাহুবলি টু’–র একদিনের আয়ের রেকর্ডও আলোচনায় এসেছে।

ভবিষ্যৎ ভবিষ্যদ্বাণী ও প্রত্যাশা

রিলিজের আগেই অনেক বক্স অফিস বিশ্লেষক বলছিলেন ‘ধুরন্ধর টু’ ভারতের বাজারে ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৩২১ কোটি টাকার সমান। বিশ্লেষক তরণ আদর্শও আশা প্রকাশ করেছেন যে সিনেমাটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে; দর্শকদের চাহিদা মিটিয়ে বড় ব্যবসা হওয়াই সম্ভব। সিনেমার মালিক বিশেক চৌহান স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ছবি ১ হাজার কোটি রুপি আয় না করে তিনি সন্তুষ্ট হবেন না; অন্য প্রযোজকরা মনে করেন আগে এমন ঘটনায় দেখা গেছে কোনো ছবি তার আগের পার্ট বা রেকর্ডকে টপ করে।

অভিনয় ও বাজেট

ছবিতে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে রয়েছেন সারা অর্জুন—যিনি বড় পর্দায় তার অংশগ্রহণ শুরু করেছিলেন এবং দ্বিতীয় অংশেও তিনি রণবীরের সঙ্গে আছেন। এ ছাড়াও উপস্থিত আছেন অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খন্না, আর. মাধবন প্রমুখা শিল্পীরা। প্রায় ২৮০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই ছবির প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

মোটমিলিয়ে বলা যায়, ‘ধুরন্ধর টু’ মুক্তির শুরুতেই ব্যবসা এবং দর্শক-প্রতিক্রিয়া দুই দিকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চার দিনের শক্তিশালী আয় প্রমাণ করেছে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে; আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকার ফলে ও সমালোচনার ধরণ দেখে চূড়ান্ত ব্যবসা এবং সমালোচকদের চূড়ান্ত রায় আরও স্পষ্ট হবে।