সুনিশ্চিত জয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালেতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
জয়ের নায়ক ছিলেন অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। ৫৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে তুলেন তিনি, এরপর ৬৭তম মিনিটে হেড করে জোড়া গোল Completing করে ম্যাচটি ঠিক করে দেন রোনান। অভিষেকেই জোড়া গোল করে দলের জন্য দারুণ এক জয় তুলে দিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণে এগিয়ে ছিল। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল করতে পারেনি লাল-সবুজরা। বিরতির পরই দৃশ্যপট বদলায় এবং খেলার গতি বাড়ে।
রোনানের প্রথম গোল স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাস ছড়িয়ে দেয় এবং দলের মনোবল উজ্জীবিত করে। বয়সভিত্তিক লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ড মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ অব্যাহত ছিল। ইব্রাহিম নেওয়াজ, মোরশেদ আলী ও শেখ সংগ্রামের কল্যাণে পুরো মাঠেই চাপ সৃষ্টি করে বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়। ৫৬ মিনিটে এক অন-অন-ওয়ান অবস্থান থেকে মুরশেদ আলী একটি সুযোগ নষ্ট করলেও দলীয় চাপ অব্যাহত ছিল।
৬১ মিনিটে পাকিস্তান ডি-বক্স থেকে বল পোস্টে জড়িয়েছিল, কিন্তু গোলের আগে গোলরক্ষককে ফাউল করা হওয়ায় রেফারি সেই গোল বাতিল করেন। ৬৫ মিনিটে মোরশেদ আলীর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া লাগলেও দুই মিনিট পরেই (৬৭তম) রোনান সতীর্থ শেখ সংগ্রামের লম্বা পাস থেকে দুর্দান্ত হেড করে জয়সূচক দ্বিতীয় গোল করে দলকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেন।
রোনানের জোড়া গোলে পরিণত হয় পাকিস্তানের বিপর্যয়, বাকি সময়ে বাংলাদেশ বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে ঢুকতে দেনি। নিয়মিত ৯০ মিনিটের শেষে যে ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় ছিল তাতেও পাকিস্তানের কোনো ফেরার সুযোগ তৈরি হয়নি।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন সুলিভান ব্রাদার্স; দলীয় স্কোয়াডে থাকা ডেক্লান সুলিভান এই ম্যাচে অভিষেক পায়নি। এই জয়ে বাংলাদেশ পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করেছে।
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী ভারত। পরের গ্রুপ ম্যাচ আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিরুদ্ধে। টুর্নামেন্ট ফাইনাল নির্ধারিত ৩ এপ্রিল।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট সাতবার অংশগ্রহণ করেছে; ২০২৪ সালে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টুর্নামেন্টে গ্রুপের শীর্ষ দুই করে মোট চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক মালদ্বীপের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা রয়েছে, ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান।





