মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ফিলিপাইন সরকার জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র একটি নির্বাহী আদেশে এই ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ ও কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সমন্বয় করবে।
শাসন ব্যবস্থার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী জরুরি অবস্থার ঘোষণা বিদ্যমান আইনকাঠামোর মধ্যেই সরকারকে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করবে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বহাল থাকবে। সেই সময় Gobierno প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
জ্বালানি বিভাগের সচিব শ্যারন গ্যারিন জানান, বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী ফিলিপাইনের হাতে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং দেশীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট মার্কোস অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পেসোর বিনিময় হার, প্রবাসী আয় ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মধ্যে সরকারের পদক্ষেপকে অনেকে অপ্রতুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনগুলো বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারের উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয় এবং জ্বালানি সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের কাঁধেই পড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স





