রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
প্রতিমন্ত্রী বুধবার রাতে ফেসবুক পোস্টে দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানান, দ্রুততম সময়ে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং অভিজ্ঞ ডুবুরি দল নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত বাসটি ছিল সৌহার্দ্য পরিবহনের, যার মধ্যে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির ওপর থেকে নদীর জলে পড়ে যায়। ওই মুহূর্তের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এক নারী ও এক শিশুকে পানিতে ভেসে থাকা একটি জায়গা থেকে উদ্ধার করে জীবিত অবস্থায় উপড়ে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এ পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; বাকিরা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ডুবুরিরা জানিয়েছেন, বাসটি নদীতে প্রায় ৫০ ফুট গভীরে পড়ে আছে এবং বর্তমানে সেটি তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট উদঘাটন ও যেকোনো অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী পুনরায় মনে করিয়েছেন।





