শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের শীর্ষ নেতা করার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে এক বিস্ময়কর দাবি করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর অনুসারে প্রথম তথ্য ইন্ডিয়া টুডি থেকে এসেছে।

রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ট্রাম্প জানান, তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে ইরানের নেতারা তাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেখতে চায়। ট্রাম্প বলেন, আমি বলেছি না, ধন্যবাদ, আমি এটা চাই না।

একই সভায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইরান এতটাই চাপের মধ্যে যে তারা চুক্তি করতে মরিয়া। তিনি বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছি এবং তারা এখন আলোচনা করতে চাইছে, কিন্তু তাদের ভয়ের কারণ তাদের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

তবে তেহরান এই দাবিগুলো সরাসরি খারিজ করেছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, আপনারা কি এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছেন যে নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলেন? আমরা আগেই বলেছি, আমাদের মতো মানুষ আপনার সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না। এখন নয়, ভবিষ্যতে নয়।

মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানসহ কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন কমানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো শর্ত থাকা বলা হচ্ছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংগৃহীত প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুদ্ধে সমাপ্তি ইরানের শর্তে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তুলে ধরার চেষ্টা চলছে এবং দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অনাগত সময়ে কীভাবে কূটনৈতিক আলোচনা এগোবে এবং এলাকার স্থিতিশীলতায় এর প্রভাব কী হবে, তা আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ছে।