প্রেক্ষাগৃহে চলমান দেখানোর জটিলতা কাটার আগেই নতুন ধাক্কা খেয়েছে শাকিব খান অভিনীত আলোচিত ছবি ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। সার্ভার ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশের কয়েকটি হলে নির্ধারিত সময়ে সিনেমাটি প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি, ফলে টিকিট কেটে বসে থাকা দর্শকের মধ্যে কঠোর ক্ষুব্ধতা দেখা দিয়েছে এবং কিছু স্থানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ভাঙচুরেরও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘটনা ঘিরেই এখন আরেকটি সমস্যা রেখে যাচ্ছে: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে সিনেমার একাধিক দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অধিকাংশ ভিডিওই প্রেক্ষাগৃহেই মোবাইল ফোনে ধারণ করা ‘হল প্রিন্ট’—যা ছবির পাইরেসি ও অননুমোদিতভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়েছে।
পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের এই ছবিটি মুক্তির আগ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ছিল। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নির্মাতা, প্রযোজক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযোজক শিরিন সুলতানার বড় বাজেটের এই ছবিটি মুক্তির সাথে সাথেই যাতে সুষ্ঠুভাবে প্রদর্শিত হয়, তা নিশ্চিত করা দর্শক ও উদ্যোগীদের এখনই এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘প্রিন্স’ ছবিটি নব্বইয়ের দশকের ঢাকার আলোচিত গ্যাংস্টার কালা জাহাঙ্গীরের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত। কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন শাকিব খান। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের গল্প ও চিত্রনাট্যে উঠে এসেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও তৎকালীন রাজনীতির জটিল চিত্র। শাকিব খানের বিপরীতে প্রথমবারের মতো তাসনিয়া ফারিণকে দেখা গেছে; এছাড়া জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু ও ড. এজাজ মহীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এমন সময় দর্শকদের আবেদন, সিনেমাভবনের নিয়মিত কর্তৃপক্ষ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে যৌথভাবে পাইরেসি রোধে এগিয়ে আসা জরুরি—না হলে শেষ পর্যন্ত নির্মাণগত ও বাণিজ্যিক ক্ষতির পাশাপাশি ছবি ও সংশ্লিষ্টদের অনাবশ্যক চাপে পড়তে হবে। দর্শক ও সামাজিক ব্যবহারকারীদেরও অনুরোধ করা হচ্ছে অ-অনুমোদিত ক্লিপ শেয়ার না করতে এবং কোন অনলাইনে লीक হওয়া দৃশ্য দেখলে তা রিপোর্ট করার জন্য।
প্রযোজনা ও বিতরণ সংক্রান্ত পক্ষ এখন ঘটনার খতিয়ান ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে; সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও সম্প্রদায়কে সঠিক তথ্য দিতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।





