যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলা এখনও চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে ইরান কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে — যেসব দেশের সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক আছে, সেসব দেশে তারা আর কোনো ক্রীড়াবিদ বা দল পাঠাবে না।
ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গত রাতে জানায়, এটা কোনো একাধিক খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; সব ধরনের জাতীয় ও ক্লাব স্তরের ক্রীড়াবিদ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যারা শত্রু এবং ইরানের খেলোয়াড় ও দলের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, সেসব দেশে জাতীয় ও ক্লাব দল পাঠানো হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।’’
এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে একাংশ আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে আগামী মাসে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ক্লাবের মুখোমুখি হওয়ার কথা আছে। এমন সময়ে ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়টি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে জানানোর দাবি করা হয়েছে। তবে ‘শত্রু দেশ’ বলতে কাকে বোঝানো হচ্ছে, তা বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্পর্ক ক্রমেই তাড়াতাড়ি খারাপ হচ্ছে বলে বিশ্বকাপ লাইভ ভেন্যু সম্পর্কে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। এবারের বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি ম্যাচের দুইটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বহুলসংখ্যক প্রবাসী ইরানি থাকার কারণে মাঠের ভেতর-বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে—এই নিয়েই ইরান মেক্সিকোতেও খেলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ইস্যুতে এক সময় একোরকম এবং পরে অন্যোরকম বক্তব্য দিয়েছেন—কখনোwelcoming, কখনো অংশ না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। অন্যদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো বলছেন সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, তবে ইরানের অংশগ্রহণ কবে নিশ্চিত হবে তা সময়ই বলবে। এবারের বিশ্বকাপ প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে।
ইরানের সম্পর্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খারাপ নয়; অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কstrained রয়েছে। এছাড়া নারী ফুটবলে গত ৮ মার্চ ফিলিপাইনের কাছে হেরে ইরানের এশিয়ান কাপের পথচলা শেষ হয়। সেইসময় যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—নারীরা বাড়ি ফিরলেও কি নিরাপদে ফিরবেন? তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী ইরানি সমর্থকরা তাদের সেখানে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানায় এবং কিছু জায়গায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে ইরানের ফুটবলারদের আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে সাত নারী ফুটবলার আশ্রয় নিলেও পাঁচজনই দেশে ফিরে যান।
সংক্ষেপে, বর্তমান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া স্পর্ধা ও বিভিন্ন ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ইরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও দলীয় ভ্রমণের পরিকল্পনায় নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।





