বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত হয়ে বর্তমানে ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। রোববারের দিনশেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৩.৯৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র, আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯.৩০ বিলিয়ন ডলার। আরিফ হোসেন খান বলেন, মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কিছুটা কমে গেছে। তবে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমে এসেছে। অন্যথায়, রিজার্ভ আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিজার্ভ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র ও জানায়, এর আগে গত ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। বিএন ব্যাংকের এক অভ্যন্তরীণ হিসাব রয়েছে, যা নিয়মিত প্রকাশ হয় না, তবে জানা গেছে, প্রকৃত বা নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার কাছাকাছি।
বর্তমানে রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি খরচ পূরণ করা যায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের সামগ্রিক আমদানির প্রয়োজনীয় অর্থ থাকা উচিত। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।





