সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে। এ কারণে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হবে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এই ঘোষণা দেয়।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছেন, নতুন মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত) অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থাকছেই, আর অকটেনের দাম স্থির থাকবে ১২0 টাকায়। এছাড়া, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১2 টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এই মূল্যহার অনুমোদন ও নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নেওয়া হয়েছে। আর এ মূল্য নির্ধারণ এপ্রিল মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।
বিশ্ববাজারে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরির আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশও এ প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের বেশি সময় হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা দেননি।
সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে থাকলেও, এ মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফলে, জনমনে এক ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। আগামী এক মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।
প্রবাসী সরকারের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত অনেকটাই স্থিতিশীল। ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬०৯ টন। সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং হজ মৌসুমের কথা বিবেচনা করে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অতিরিক্তভাবে, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি সংরক্ষণ ও মজুতের খবর উঠেছে, যা উদ্বেগের কারণ। এ বিষয়ে অভিযান চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৯১টি অভিযান সম্পর্কিত প্রতিবেদনে ১৯১টি মামলা দায়ের এবং ৯৮,০৩,৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সময়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।





