সরকারের চলমান অভিযানে একদিনে প্রায় ৮৮ হাজার লিটার অনৈতিকভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন, এপ্রিল মাসেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) একদিনে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান থেকে মোট ৮৭,৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে ডিজেল রয়েছে ৬৭,৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩,৮৫৬ লিটার।
মুখপাত্র বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ এখন স্থিতিশীল। দেশে ডিজেলের মজুত আছে ১,২৮,৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন ৭,৯৪০ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১১,৪৩১ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪,৬০৯ মেট্রিক টন — মোট মজুদ ১,৯২,৯১৯ মেট্রিক টন। এতে আগামী মাসেও কোনো সংকট হওয়ার সম্ভাবনা কম আছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ চেইন সচল রাখা হয়েছে এবং হজ মৌসুমকে মাথায় রেখে জেট ফুয়েলের মজুদের কথাও বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকার জ্বালানি সংগ্রহে সরকার-টু-সরকার চ্যানেল ও উন্মুক্ত দরপত্র—দুই পদ্ধতিই ব্যবহার করছে।
একদিনের অভিযানে সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯,০৩,৫৭০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তৎপরতায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় — সাতক্ষীরায় দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাস। চলমান অভিযান তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, এ পর্যন্ত মোট ৩,৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে; এ সময় ১,২৪৪টি মামলা দায়ের ও ৮,৪৫১,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২,৯৬,৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এর মধ্যে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের আলাদা আলাদা পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বাড়াতে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে — ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন ও মহানগর এলাকায় ১১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন ও মহানগরে ৬২ জনসহ অন্যান্য বিভাগেও অনুরূপভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি বিতরণে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও জোরদার হবে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।
জনগণকে অপ্রয়োজনীয় মজুদ ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে যুগ্মসচিব বলেন, সরকার দিনরাত কাজ করছে যাতে জ্বালানি খাতে কোনো সমস্যা না হয়; সবাইকে সাশ্রয়ী ও স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণ হলে তিনি সেটিকে “মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত কেনাকাটা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এলপিজি সংক্রান্ত নিশ্চয়তাও তিনি দেন—মার্চে দেশে প্রায় ১,৭৪,৮৯৪ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে গড় মাসিক চাহিদা প্রায় ১,৫০,০০০ মেট্রিক টন। এছাড়া এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কথাও তিনি তুলে ধরেন — জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে শিগগিরই কিছু স্থানে এটি চালু করা হবে; পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণও করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ মজুৎ চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ধরা হচ্ছে। জনগণকে ভরসা রাখতে ও আতঙ্কজনিত আচককা থেকে বিরত থাকতে মন্ত্রণালয় অনুরোধ জানিয়েছেন।





