বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মার্চে দেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন ও হত্যার ভয়াবহতা

দেশের উন্নতি ও সমতা প্রতিষ্ঠার পথে মার্চ মাসে নারীদের পাশে এক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে দেশের নারী সমাজ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারী ও কন্যা নির্যাতন-বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এক মাসে দেশে মোট ৪৭ নারী ও কন্যাশিশু হত্যা হয়েছে, যেখানে পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭ জন। এই তথ্যগুলো ১৫টি প্রধান দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ মাসে প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্চের মাসে ১৯০ জন নারী ও কন্যা—যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে—নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি, ৩৫ জন কন্যাসহ মোট ৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এর মধ্যে ১৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার। ধর্ষণের পরে পাঁচজন নিহত হয়েছে, আর ছয়জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ১২ জন। বিভিন্ন কারণে যথা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ৪৭ জন নারী ও কন্যার জীবন end হয়েছে। এ ছাড়াও, ১৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আর এই মাসে অ্যাসিড দগ্ধ হয়েছে একজন নারী, অগ্নিদগ্ধ হয়েছে তিনজন, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিদগ্ধের কারণে। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে পাঁচজন, যার মধ্যে তিনজন হত্যা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় দুজন নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, আর একটি গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ১৪ জন নারী ও কন্যা আত্মহত্যা করেছে, এর মধ্যে পাঁচজন আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার। আরও একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে, দু’জন কন্যাসহ পাঁচজন অপহরণের শিকার হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত দেশের নারী সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা আমাদের সবাইকে সচেতন হতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।