বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রবাসীর আয়ে নতুন রেকর্ড, ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ডলার

চলতি মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের বিশাল এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনেই বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, চলতি মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশের বৈদেশিক রেমিট্যান্স এসেছে এত বিপুল পরিমাণ, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এই সময়ের প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।

ব্যাংকারদের ধারণা, রমজান ও ঈদুল ফিতর আসার সময়ে সাধারণত প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠায়। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী দেশের অর্থ সরাসরি পাঠিয়ে থাকতে পারেন। এই প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চের ২৮তম দিন পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩১ দশমিক ০২ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের একক অর্থবছরে সবচেয়ে বড় রেকর্ড।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী আয়ের উপর। সংঘর্ষ চলমান থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যদি পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়, তবে নেতিবাচক প্রভাব সীমিত থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংকটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় আস্তরণের দেশগুলো থেকে, যেখানে দেশের জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজারও অবস্থিত। এই অঞ্চলের যেকোনো সংকটই সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে।